১৫ বছর বয়সী সাফিন আদিয়াত অটিজম বৈশিষ্ট্য নিয়ে বড় হচ্ছে একেবারে আলাদা এক বাস্তবতায়। পরিবারে নিবিড় যত্ন আর ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সে এখন ছোটখাটো দৈনন্দিন কাজ নিজে করতে শিখেছে। দোকান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস আনা, ওষুধ কেনা, এমনকি বাবার সঙ্গে রান্নায় সহযোগিতা করাও তার রুটিনের অংশ হয়ে উঠেছে। কম্পিউটার ব্যবহার, গেম খেলা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের মতো কাজেও সে স্বচ্ছন্দ। কিন্তু এই অগ্রগতির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পরিবারের। প্রতিটি কাজের আগে পরিকল্পনা, নির্দেশনা আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই তাকে বাইরে পাঠানো হয়। দোকানদারকে আগেই জানানো হয়, টাকার হিসাব বুঝিয়ে দেওয়া হয়, আর তার চলাফেরায় নজরদারিও থাকে। এই নিয়ন্ত্রিত পরিবেশেই সাফিন ধীরে ধীরে আত্মনির্ভরতার পথে এগোচ্ছে।
তবে এমন চিত্র সবার ক্ষেত্রে এক নয়। দেশে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অনেক শিশুই এখনো শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ থেকে পিছিয়ে আছে। শহরাঞ্চলে কিছু অগ্রগতি থাকলেও প্রান্তিক এলাকায় সেই সুযোগ আরও সীমিত। অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা বলছে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দৈনন্দিন জীবন পরিচালনা। অনেক শিশুর আচরণগত সমস্যা, চিকিৎসা গ্রহণে অসুবিধা এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে মানিয়ে নেওয়ার সমস্যায় পরিবারগুলোকে নিয়মিত চাপের মধ্যে থাকতে হয়। চিকিৎসা ও সেবায় সমন্বিত ব্যবস্থার ঘাটতিও স্পষ্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অটিজমকে শুধু চিকিৎসা নয়, সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিষয় হিসেবে দেখা জরুরি। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হলে এই শিশুদের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। কেউ কেউ সম্পূর্ণ সহায়তা প্রয়োজন করবে, আবার কেউ ধাপে ধাপে স্বনির্ভর হতে পারবে—এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই ব্যবস্থা গড়তে হবে।
সব মিলিয়ে, অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মানুষের জন্য অগ্রগতি শুরু হয়েছে, কিন্তু সেই অগ্রগতি এখনো অসম এবং অসম্পূর্ণ।