রাষ্ট্র ইতিমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করেছে। নিম্ন আয়ের পরিবার, কৃষক এবং সাধারণ মানুষের জন্য ডিজিটাল ফ্যামিলি

‘ভাসমান কার্ড’ চালু করা যায় কি?

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৯:৪৩ সময় , আপডেট সময় : ২ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৯:৪৩ সময়

রাষ্ট্র ইতিমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করেছে। নিম্ন আয়ের পরিবার, কৃষক এবং সাধারণ মানুষের জন্য ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্বাস্থ্য কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব সুবিধার বাইরে থেকে যাচ্ছে একটি বড় কিন্তু প্রায় অদৃশ্য জনগোষ্ঠী—ভাসমান মানুষ। শহরের রাস্তা, ফুটপাত, স্টেশন বা পার্কে যাদের রাত কাটে, তাদের অনেকেরই নেই স্থায়ী ঠিকানা বা পরিচয়। কেউ পরিবার হারিয়েছে, কেউ দারিদ্র্য বা দুর্যোগে গৃহহীন হয়েছে, আবার অনেক শিশু জন্ম থেকেই পথশিশু হিসেবে বড় হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় তারা সরকারি সহায়তার বাইরে থেকে যায়। এই বাস্তবতায় একটি নতুন ধারণা সামনে এসেছে—ভাসমান কার্ড। এটি মূলত এমন একটি বিশেষ পরিচয়পত্র হতে পারে, যা গৃহহীন মানুষদের রাষ্ট্রীয় সেবার আওতায় আনবে।


এই কার্ডের মাধ্যমে তাদের একটি ইউনিক পরিচয় দেওয়া সম্ভব হবে। সিটি করপোরেশন, সমাজসেবা অধিদপ্তর বা স্থানীয় প্রশাসনের জরিপের মাধ্যমে এসব মানুষকে শনাক্ত করা যেতে পারে। মোবাইল টিমের মাধ্যমে রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, ফুটপাত বা বস্তি এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বায়োমেট্রিকভাবে নিবন্ধন করা হলে একই ব্যক্তি বারবার তালিকাভুক্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। এরপর এই কার্ডধারীরা খাদ্য সহায়তা, অস্থায়ী আশ্রয়, চিকিৎসা সেবা এবং পুনর্বাসন কর্মসূচির সুবিধা পেতে পারে। ধীরে ধীরে এটি শুধু সহায়তার ব্যবস্থা নয়, বরং পুনরায় সমাজে ফেরার একটি পথও তৈরি করতে পারে।


এ ধরনের উদ্যোগের সবচেয়ে বড় লাভ হবে রাষ্ট্রের কাছে একটি নির্ভুল ডাটাবেস তৈরি হওয়া। কে কোথায় আছে, কতজন গৃহহীন মানুষ রয়েছে—এগুলো স্পষ্টভাবে জানা গেলে পরিকল্পনা আরও বাস্তবসম্মত হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য নিরাপত্তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে চ্যালেঞ্জও আছে। ভাসমান মানুষদের শনাক্ত করা কঠিন, অনেকের তথ্য অনিশ্চিত, আবার অপব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে। এসব মোকাবিলায় প্রযুক্তি, বায়োমেট্রিক যাচাই এবং স্থানীয় প্রশাসন ও এনজিওদের সমন্বিত কাজ জরুরি।


সব মিলিয়ে ভাসমান কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়, বরং রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষের জন্য একটি নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের সুযোগ হতে পারে। এটি সফল হলে সামাজিক সুরক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং মানবিক রাষ্ট্রের ধারণা আরও শক্তিশালী হবে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯