দেশে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আগামী এপ্রিলেও আমদানি স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় এবং ভর্তুকির পরিমাণ নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। সোমবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মুনির হোসেন জানান, গত রবিবার তেলের দাম সমন্বয়ের একটি প্রস্তাব এসেছে। এতে দাম অপরিবর্তিত রাখা, আংশিক বৃদ্ধি বা ভর্তুকি সমন্বয়ের মতো বিভিন্ন বিকল্প রাখা হয়েছে। সরকার এখন এসব বিষয় বিশ্লেষণ করছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই জানানো হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিপিসির অধীন তেল বিপণন সংস্থাগুলো ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন ও জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয়ের জন্য আলাদা প্রস্তাব দিয়েছে। এপ্রিল মাসের জন্য নতুন মূল্য কাঠামো ও ভর্তুকি প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কাজ চলছে। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে ডিজেল সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়। বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের উদ্বৃত্ত মজুত রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বজায় রাখা হয়েছে এবং ঈদকে কেন্দ্র করে সরবরাহ প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে কিছু কার্গো বিলম্ব এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে দেরির কারণে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। ঢাকার কিছু ফিলিং স্টেশনে আগের তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে জ্বালানি বিভাগ এটিকে আতঙ্কজনিত চাহিদা বৃদ্ধি এবং লজিস্টিক সমন্বয়ের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে নতুন কার্গো থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি দেশে আসবে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করতে ‘ফুয়েল পাস’ নামের একটি কিউআর কোডভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে।
সরকার কূটনৈতিকভাবেও জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ একাধিক দেশ থেকে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত আছে।