মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান শেষ করার দিকে ঝুঁকছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এই অবস্থান পরিবর্তনের ফলে জলপথটিতে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ আরও কিছু সময় বজায় থাকতে পারে এবং সেটি দ্রুত স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প মনে করছেন, এখনই কঠোরভাবে জলপথ খুলে দেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘাত তাঁর নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে চলে যেতে পারে। তাই তিনি যুদ্ধ দ্রুত গুটিয়ে আনার দিকেই বেশি আগ্রহী। সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক মূল্যায়নে মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, ইরানের নৌ সক্ষমতা এবং ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর বিরুদ্ধে মূল লক্ষ্যগুলো ইতোমধ্যেই অর্জিত হয়েছে। সেই কারণে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে প্রশমনের দিকে নেওয়ার আলোচনা চলছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এখন আলোচনা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্য স্বাভাবিক করার চাপ সামরিক অভিযানের বদলে কূটনৈতিক পথে বাড়ানো যায় কি না। অর্থাৎ সরাসরি সংঘাতের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক চাপ ও আলোচনাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যদি কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হয়, তাহলে জলপথ পুনরায় সচল করার দায়িত্ব ইউরোপ ও উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় আছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ার কৌশল নিতে পারে। হোয়াইট হাউসের হাতে এখনো সামরিক বিকল্প থাকলেও বর্তমান অগ্রাধিকার হলো সংঘাত কমানো এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ বহন করে, তাই এখানে অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।