খুলনা বিভাগে হঠাৎ করেই হামের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন করে সতর্ক সংকেত দিচ্ছে। প্রতিদিনই

খুলনায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে হাম, ১০ জেলায় হাসপাতালে ভর্তি ৭৯ শিশু

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৩১ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:২৯ সময় , আপডেট সময় : ৩১ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:২৯ সময়

খুলনা বিভাগে হঠাৎ করেই হামের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন করে সতর্ক সংকেত দিচ্ছে। প্রতিদিনই জ্বর, শরীর ব্যথা, সর্দি-কাশি ও লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে শিশু রোগীরা হাসপাতালের বহির্বিভাগে ভিড় করছেন। যদিও পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগের ১০টি জেলায় অন্তত ৭৯ জন শিশু বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অন্তত ২৬ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা কুষ্টিয়ায়। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতাল মিলিয়ে সেখানে ৬৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন। এছাড়া যশোরে ৬ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন এবং ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা ও মাগুরায় ২ জন করে শিশু ভর্তি রয়েছে। অন্যান্য জেলাতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্তদের বেশিরভাগই অল্পবয়সী শিশু, বিশেষ করে ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী এবং এক বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি। যেসব শিশু এখনো পূর্ণ টিকাদান পায়নি বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে প্রথমে জ্বর ও সর্দি-কাশি দেখা যায়, এরপর চোখ লাল হয়ে যায় এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতাও দেখা দিচ্ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি কয়েকজন শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।


বিশেষজ্ঞরা জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যার নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। তাই রোগীদের সাপোর্টিভ চিকিৎসার ওপরই নির্ভর করতে হয়। এদিকে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলছে। আইসোলেশন ইউনিট থাকলেও শয্যা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা সীমিত। বিশেষ করে এনআইসিইউ সুবিধার ঘাটতি বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে।


স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে সব জেলা হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের বিস্তার রোধে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে জ্বর বা ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্তদের আলাদা রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯