দেশে হামের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ায় পরিস্থিতি এখন চাপের মধ্যে। মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে রোগী ভর্তি কয়েকগুণ বেড়েছে, আর শুধু চলতি বছরেই এখানে ২২ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অন্তত ১০ জেলায় রোগটি ছড়িয়ে পড়ায় ঢাকাসহ বড় হাসপাতালগুলোতে আলাদা ওয়ার্ড খুলে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের আউটব্রেক জানুয়ারির শেষ দিকে শুরু হয়ে মার্চে এসে তীব্র হয়। মহাখালী হাসপাতালে এখন প্রতিদিন প্রায় ১০০ জন পর্যন্ত শিশু ভর্তি হচ্ছে, যেখানে আগে এই সংখ্যা ছিল খুবই কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম খুবই দ্রুত ছড়ায় এবং একজন আক্রান্ত ব্যক্তি অনেকজনকে সংক্রমিত করতে পারে।
সরকার বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৬০৪ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং টিকা সরবরাহ শেষে দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন চালানো হবে। একই সঙ্গে বড় হাসপাতালগুলোতে আলাদা ওয়ার্ড চালু করে চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, টিকাদান কাভারেজ কমে যাওয়া, বিশেষ করে ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দেওয়া এমআর টিকার ফাঁক থাকার কারণে সংক্রমণ বেড়েছে। পাশাপাশি কিছু শিশু টিকা সময়মতো না পাওয়াও ঝুঁকি বাড়িয়েছে। আগামীতে ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা আছে।
চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। দ্রুত টিকাদান, সচেতনতা আর হাসপাতাল সক্ষমতা বাড়ানো এখন সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে।