ভূমধ্যসাগরে ইউরোপে যাওয়ার পথে আবারও ভয়াবহ অভিবাসন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চারজন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিবিয়া থেকে রাবারের নৌকায় (স্থানীয়ভাবে যাকে “গেম” বলা হয়) করে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন তারা। পথে খাবার ও পানির সংকট দেখা দিলে নৌকায় থাকা অনেকেই দুর্বল হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে কয়েকজনের মৃত্যু হয় বলে বেঁচে ফেরা একজন যাত্রী পরিবারের কাছে ফোনে খবর দেন। নিহত চারজন হলেন দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ও রাজানগর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তারা সবাই প্রায় ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে দালালের মাধ্যমে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। গত মাসে তারা দেশ ছাড়েন এবং পরে লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে যাত্রা শুরু করেন।
পরিবারের দাবি, নৌকায় থাকা একজন ব্যক্তি ফোন করে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, পরে মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, বিষয়টি তারা বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছেন, তবে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, একই সময় ভূমধ্যসাগরে পৃথক আরেকটি ঘটনায় আরও অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে রাবারের নৌকায় করে তারা যাত্রা করেছিলেন। ওই ঘটনায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ জীবিত উদ্ধার হন।
এই ঘটনাগুলো আবারও সামনে আনছে ইউরোপগামী ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন রুটের বাস্তবতা, যেখানে দালালচক্রের প্রলোভন আর অনিশ্চিত সমুদ্রযাত্রা মিলিয়ে প্রতিনিয়ত প্রাণহানি ঘটছে।