ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

হরমুজ প্রণালি: উৎপত্তি, সংকট ও বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৯ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:৫৩ সময় , আপডেট সময় : ২৯ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:৫৩ সময়

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি, যেটিকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান “লাইফলাইন” হিসেবে ধরা হয়। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগকারী এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল পরিবহন হয়। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে সচল রাখে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালিটি প্রাকৃতিকভাবে গঠিত হলেও আধুনিক বিশ্বে এর গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে তেলনির্ভর অর্থনীতির কারণে। প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেল এই পথে পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক সরবরাহের বড় একটি অংশ। সংকীর্ণ এই নৌপথে নির্দিষ্ট শিপিং লেন ব্যবহার করে জাহাজ চলাচল করে, ফলে সামান্য অস্থিরতাও পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কোনো কারণে এই পথ বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে সরাসরি তেলের দাম বৃদ্ধি পায়।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর বড় অংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। একইভাবে চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তাও এর সঙ্গে জড়িত। ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশও এই পরিস্থিতির বাইরে নয়। দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানিনির্ভর এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়েই প্রবেশ করে। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন খাত ও শিল্প উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানি উৎস, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার এবং সরবরাহ বৈচিত্র্যকরণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।


সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।


লেখক: ফিকামলি তত্ত্বের জনক, বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক শিক্ষক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯