মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত এখনই শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ফ্লোরিডার মিয়ামিতে আয়োজিত এক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এখনো ৩ হাজার ৫শ’ ৫৪টি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হামলার তালিকায় রয়েছে। তিনি বলেন, এসব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পরই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে কয়েকবার জয় দাবি করলেও এবার তিনি স্বীকার করেন, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটতে পারে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্থলবাহিনী পাঠানো ছাড়াই আকাশপথ ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জন সম্ভব। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কৌশলেই এগোচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর মতে, ওয়াশিংটন একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যতালিকা ধরে অভিযান পরিচালনা করছে। এত বিপুল সংখ্যক লক্ষ্যবস্তু এখনো বাকি থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোর বড় অংশ এখনো সক্রিয় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থল অভিযান এড়িয়ে যাওয়ার পেছনে মার্কিন সেনাদের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর কৌশল কাজ করছে। তবে এই দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা বিশ্ব রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে। একদিকে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার কথা বলা হলেও, অন্যদিকে হামলার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সূত্র: সিএনএন