সৌদি আরবের আল-খারজ এলাকায় অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে চালানো এই হামলার বিষয়টি মার্কিন এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, হামলায় একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করা হয়, যা সরাসরি মার্কিন সেনাদের আবাসন ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় পুরো ঘাঁটিতে জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন নিহতও হয়েছেন। আহতদের একটি অংশ চিকিৎসা শেষে পুনরায় দায়িত্বে ফিরেছেন বলে দাবি করা হয়। হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবে মোতায়েন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা প্রতিহত করতে কতটা সফল হয়েছে, তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ চলছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে ঘাঁটির কিছু অংশে ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি সমন্বিত ও পরিকল্পিত আঘাত হতে পারে। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ওয়াশিংটন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পাল্টা পদক্ষেপের প্রস্তুতির কথাও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এদিকে ইরান আগেই সতর্ক করেছিল যে, তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা হলে অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
সব মিলিয়ে নতুন এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সূত্র: রয়টার্স, সিবিএস নিউজ