যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থলপথে সামরিক অভিযান ঠেকাতে ১০ লাখ যোদ্ধা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের কোনো স্থল অভিযানকে তারা ‘আত্মঘাতী’ পদক্ষেপ হিসেবে দেখবে এবং দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সামরিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইরানের সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই দ্বীপ থেকেই দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি নিয়ন্ত্রিত হয়, ফলে এটিকে জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সূত্রটি আরও জানায়, দক্ষিণ দিক দিয়ে স্থলযুদ্ধে প্রবেশের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে এবং দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী যেকোনো বড় ধরনের অনুপ্রবেশ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। ইতোমধ্যে বিপুল সংখ্যক তরুণ স্বেচ্ছাসেবক বিভিন্ন আধাসামরিক ও নিয়মিত বাহিনীতে যোগ দিতে রিক্রুটমেন্ট কেন্দ্রে ভিড় করছেন। সামরিক কর্তৃপক্ষ এই প্রবণতাকে জাতীয় ঐক্যের প্রকাশ হিসেবে দেখছে। সামরিক সূত্র আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগের চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। এই কৌশলগত জলপথ নিয়ে ইরানের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানানো হয়। এর আগে সম্প্রতি ইরান পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের নৌ মহড়া চালায়, যা চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই বিশাল সামরিক প্রস্তুতির ঘোষণা মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা থেকে বিরত রাখার একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত স্থলসেনা মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনা করছে, যার পরপরই ইরানের এই প্রস্তুতির খবর সামনে আসে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কূটনৈতিক সমাধান না এলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।