ঈদকে ঘিরে কেনাকাটার ব্যস্ততায় এখন নগদ টাকার বদলে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। পোশাক থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক পণ্য—সবখানেই ‘প্লাস্টিক মানি’র দাপট চোখে পড়ার মতো। তবে এই খরচ যদি পরিকল্পনা ছাড়া হয়, তাহলে মাস শেষে সুদের বাড়তি চাপ গ্রাহকদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।আর্থিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো বিল পরিশোধ না করলে উচ্চ হারের সুদ ও বিলম্বজনিত চার্জ মিলিয়ে দেনার পরিমাণ দ্রুত বাড়ে। বিশেষ করে ‘মিনিমাম পেমেন্ট’ করার প্রবণতা গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জালে আটকে ফেলে, কারণ এতে মূল টাকার খুব সামান্য অংশই পরিশোধ হয়, আর বাকি অংশে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ যুক্ত হতে থাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় সুদের একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকলেও তা সাধারণ ঋণের তুলনায় তুলনামূলক বেশি। ফলে অসতর্ক ব্যবহারে এই ঋণ সহজেই বড় আকার ধারণ করতে পারে, যা উৎসবের আনন্দকে ম্লান করে দিতে সক্ষম। এই পরিস্থিতি এড়াতে বিশেষজ্ঞরা কিছু কার্যকর দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রথমত, কেবল ন্যূনতম অর্থ পরিশোধ না করে সম্ভব হলে বেশি পরিমাণে বিল পরিশোধ করা উচিত। দ্বিতীয়ত, বিলের সুদের হার ও চার্জ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। এছাড়া খরচের একটি সুস্পষ্ট তালিকা তৈরি করলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো সহজ হয়।
বড় অঙ্কের বকেয়া থাকলে তা ধাপে ধাপে পরিশোধের পরিকল্পনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে এই সময় নতুন করে অতিরিক্ত খরচ থেকে বিরত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ। বিল পরিশোধের নির্ধারিত সময় মনে রাখতে মোবাইল রিমাইন্ডার বা অটো-পে সুবিধা ব্যবহার করাও উপকারী হতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, সচেতন ব্যয় ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনাই পারে উৎসবের আনন্দ ধরে রাখতে। নয়তো অসাবধানতার কারণে সেই আনন্দই পরিণত হতে পারে আর্থিক চাপে।