মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যখন যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ছেই, ঠিক তখনই আড়ালে চলছে কূটনৈতিক তৎপরতার নতুন অধ্যায়। চলমান সংঘর্ষ থামাতে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা পৌঁছেছে পাকিস্তানের মাধ্যমে—এমন তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে। কূটনৈতিক মহলের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং হরমুজ প্রণালীর সামুদ্রিক নিরাপত্তা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর মাধ্যমে তেহরানকে নির্দিষ্ট সীমার ভেতরে আনতে চায় ওয়াশিংটন।
এ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এই আলোচনার অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। প্রয়োজনে সরাসরি সংলাপের ব্যবস্থা করতেও প্রস্তুত রয়েছে ইসলামাবাদ। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে তার আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে এবং সাময়িকভাবে হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি নাকচ করে বলেছে, তারা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনায় বসেনি।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত ইতোমধ্যে চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযান এবং ইরানের পাল্টা হামলায় প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বেড়েই চলেছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৫ দফার এই প্রস্তাব সম্ভাবনার দরজা খুললেও বাস্তবায়ন নির্ভর করছে মাঠের পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর। বিশেষ করে ইসরায়েলের কড়া অবস্থানই এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।