মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে মজুত থেকে তেল ছাড়তে শুরু করেছে জাপান। দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে জাপান বেসরকারি খাতের মজুত থেকে প্রায় ১৫ দিনের জ্বালানি ব্যবহারের সমপরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ছে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ সংকটের চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে জাপানের তেল কোম্পানিগুলোর কাছে প্রায় ৭০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো জ্বালানি মজুত রয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারের নিজস্ব কৌশলগত তেল মজুতও রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মার্চের শেষ দিকে সরকার সেখান থেকেও প্রায় এক মাসের চাহিদা পূরণে সক্ষম পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়তে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, জাপানের মোট জরুরি তেল মজুত প্রায় ২৫৪ দিনের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। এর মধ্যে জাতীয় মজুত রয়েছে ১৪৬ দিনের সমপরিমাণ, বেসরকারি খাতের মজুত রয়েছে ১০১ দিনের এবং উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে সংরক্ষিত রয়েছে সাত দিনের সমপরিমাণ তেল। সব মিলিয়ে দেশটির মোট মজুত প্রায় ৪৭০ মিলিয়ন ব্যারেল।এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশগুলো তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ১০ কোটি ৮৬ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, ১৬ মার্চ থেকেই বাজারে অতিরিক্ত তেলের ‘অভূতপূর্ব’ সরবরাহ শুরু হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।