বিগত সরকারের সময় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগে নানা অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ট্রেইনি রিক্রুটমেন্ট কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে দেশের সব জেলায় তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। রোববার (১৫ মার্চ) পুলিশ সদর দপ্তর এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। এডিশনাল ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং) মো. আবু হাসানের স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি জেলায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে সভাপতি করে কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য অনিয়ম ও অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় অনেক ক্ষেত্রে এক জেলার বাসিন্দাকে অন্য জেলার কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আবার রাজনৈতিক সুপারিশের তালিকা ধরে কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধা তালিকায় স্থান পাওয়ার পরও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অজুহাতে অনেক প্রার্থীকে নিয়োগ না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আবার অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে পৃথক কক্ষে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নিয়ে প্রার্থীদের উত্তীর্ণ দেখিয়ে চাকরি দেওয়ার ঘটনাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিকে বিশেষভাবে ছয়টি বিষয় খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি পাওয়া, অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে পৃথক কক্ষে পরীক্ষা গ্রহণ, প্রার্থী বা তার পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের মধ্যে অস্বাভাবিক পার্থক্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ অন্যান্য অভিযোগ। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, প্রতিটি জেলার তদন্ত কমিটিকে এসব অভিযোগ যাচাই করে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এরপর তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।