ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যকে দ্রুত বড় ধরনের সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প: মার্কিন সিনেটর

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৬ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:৩২ সময় , আপডেট সময় : ১৬ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:৩২ সময়

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যকে দ্রুত বড় ধরনের সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন সিনেটর। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাতের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একাধিক পোস্টে এ মন্তব্য করেন। তার মতে, চলমান যুদ্ধ ইতিমধ্যেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে সহিংসতার এক বিপজ্জনক চক্রে ঠেলে দিয়েছে।


মারফি লিখেছেন, এখন পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে যে ট্রাম্প ইরানের পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা সম্পর্কে ভুল ধারণা করেছিলেন। এর ফলে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়ে পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। তিনি বলেন, প্রথম বড় সংকট তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে। এই সরু নৌপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২০ শতাংশেরও বেশি পরিবাহিত হয়। মারফির দাবি, ওয়াশিংটন ইরানের সক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করেছে এবং ট্রাম্প মনে করেছিলেন তেহরান এই প্রণালি বন্ধ করবে না। তার মতে, ইরানের ড্রোন, স্পিডবোট ও সামুদ্রিক মাইনের ব্যবহার এই জলপথকে নিরাপদ রাখা কঠিন করে তুলেছে। এসব অস্ত্র সহজে নির্মূল করা সম্ভব নয় এবং সংখ্যায় অনেক হওয়ায় এগুলো বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে। ফলে তেলবাহী ট্যাংকারকে নিরাপদে পার করাতে মার্কিন নৌবাহিনী বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।


মারফি আরও বলেন, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তার মতে, ইরান সস্তা ও অস্ত্রসজ্জিত বিপুল সংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করে তেলক্ষেত্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চালাতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, পারস্য উপসাগরে সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইতিমধ্যেই জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে যে ড্রোন এখন আধুনিক যুদ্ধের ধরন পাল্টে দিয়েছে।


মারফির দাবি, ট্রাম্প যদি ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতার দিকে নজর দিতেন, তাহলে তিনি বুঝতে পারতেন যুদ্ধকৌশল কতটা বদলে গেছে। কিন্তু তা না করায় তিনি বড় ধরনের ভুল করেছেন। এদিকে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও চাপের মুখে পড়েছে। ইসরায়েল ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার মজুত দ্রুত কমে আসছে।


মারফি আরও সতর্ক করেন, এই যুদ্ধ ধীরে ধীরে আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। কারণ লেবাননে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলে হামলা চালাচ্ছে এবং ইরাকের কিছু গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু করছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল লেবাননে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।


তার মতে, পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি রণাঙ্গন যে কোনো সময় নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯