আইনি জটিলতা কাটিয়ে ২০২৫ সালের স্থগিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে

নতুন-পুরোনো পাঠের চাপে পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৬ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:৩০ সময় , আপডেট সময় : ১৬ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:৩০ সময়

আইনি জটিলতা কাটিয়ে ২০২৫ সালের স্থগিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তে নতুন ও পুরোনো পাঠের চাপ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী চাপে পড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা একদিকে ষষ্ঠ শ্রেণির নিয়মিত পাঠ, প্রথম সাময়িক পরীক্ষা এবং আসন্ন অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে আবার পঞ্চম শ্রেণির পুরোনো সিলেবাস ঝালিয়ে নিয়ে বৃত্তি পরীক্ষার জন্য পড়তে হচ্ছে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক শিক্ষার্থী গত বছরের পঞ্চম শ্রেণির বই ও গাইড ইতিমধ্যে বিক্রি করে দিয়েছে। এখন নতুন করে সেই বই সংগ্রহ করা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে আগের বইয়ের বেশ পার্থক্য থাকায় প্রস্তুতি আরও জটিল হয়ে পড়ছে।


গত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, স্থগিত থাকা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ঈদুল আজহার আগে এপ্রিল মাসেই অনুষ্ঠিত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এই পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। এবার প্রথমবারের মতো কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। বৃত্তি বণ্টনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীরা ২০ শতাংশ কোটা পাবে। পাঁচটি বিষয়ে মোট ৪০০ নম্বরের এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ১০০ নম্বর করে এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৫০ নম্বর করে নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৩৩ হাজার মেধাবৃত্তি এবং ৪৯ হাজার ৫০০ সাধারণ বৃত্তি।


মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা এককালীন ২২৫ টাকা এবং মাসে ৩০০ টাকা পাবে। সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসে ২২৫ টাকা করে পাবে। সরকার জানিয়েছে, ২০২৭ সাল থেকে বৃত্তির পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে হঠাৎ করে বৃত্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্তে অভিভাবকদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকেই বলছেন, ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন শিক্ষাক্রমে অভ্যস্ত হওয়ার আগেই আবার পঞ্চম শ্রেণির সিলেবাসে পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।


খুলনার দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, পঞ্চম শ্রেণি শেষ করে মাধ্যমিকে চলে যাওয়া প্রায় ৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র পাঁচজন বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। কারণ অধিকাংশই আগের বই বিক্রি করে দিয়েছে। গাজীপুরের একটি কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষকও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তার প্রতিষ্ঠানে ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র পাঁচজন বৃত্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা এ ক্ষেত্রে আরও বেশি সমস্যায় পড়ছে। রাজশাহীর মোহনপুরের এক অভিভাবক জানান, তার ছেলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভালো ফল করেছিল। কিন্তু বই বিক্রি করে দেওয়ার পর আবার পুরোনো সিলেবাসে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।


উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৬ বছর পর প্রাথমিক স্তরে বৃত্তি পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে নীতিমালায় সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আপত্তি ওঠে। এই নীতিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একদল অভিভাবক ও শিক্ষক হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। পরে আদালত সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশ দেন।


পরবর্তীতে আপিল করা হলেও আইনি জটিলতা পুরোপুরি কাটেনি। ফলে স্থগিত হয়ে যায় ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা, যা এখন আবার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯