দীর্ঘদিনের খরার পর অবশেষে চলতি সপ্তাহে সিলেটে কয়েক দফা বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও হাওর অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ বৃষ্টির পানিতে বিভিন্ন এলাকায় ফসলরক্ষা বাঁধে ফাটল ও ধসের ঘটনা ঘটেছে। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, ধর্মপাশা ও তাহিরপুরসহ হাওর অধ্যুষিত বেশ কয়েকটি উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে আগাম বন্যা হলে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েকটি বাঁধে বৃষ্টির পানির কারণে ‘রেইন কাট’ বা মাটির ক্ষয় হয়েছে। তবে তাদের দাবি, মাটির বাঁধ ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে উঠবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে (পিআইসি) দ্রুত ফাটল মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী কাইসার আলম জানান, বিষয়টি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং কোথাও সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, আগামী ২৩ মার্চ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে প্রতিদিন ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এই সময়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। ফলে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামলে হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৮৩.৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নলুয়ার হাওরের ১১ নম্বর প্রকল্পের বাঁধ নির্মাণ কাজ সময় বাড়ানোর পরও শেষ হয়নি। পাশাপাশি নলুয়ার হাওরের ৩ নম্বর প্রকল্প, আশারকান্দি ইউনিয়নের ৯৪ নম্বর প্রকল্প এবং মিরপুর ইউনিয়নের জামাইকাটা হাওরের গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। জামাইকাটা হাওরের ৩৬ নম্বর প্রকল্পে প্রায় ০.০৫৮ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও মুখ বন্ধের কাজে আট লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। তবে কৃষকদের অভিযোগ, দায়সারা নির্মাণের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই বাঁধ ধসে পড়েছে, যা হাওর এলাকার ফসলের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।