সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো নারীদের জন্য আলাদা ভাতা চালুর দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। স্থানীয়ভাবে ‘বাঘ বিধবা’ নামে পরিচিত এসব নারীর জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিষয়টি উত্থাপন করেন গাজী নজরুল ইসলাম। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া অধিবেশনে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনা চলাকালে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি এই দাবি তুলে ধরেন।
সংসদ সদস্য বলেন, তার নির্বাচনী এলাকা উপকূলীয় হওয়ায় বহু মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে নিয়মিত সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। মধু সংগ্রহ, মাছ ধরা ও কাঠ সংগ্রহের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় যুক্ত থাকায় প্রায়ই বাঘের আক্রমণের ঘটনা ঘটে। এতে পরিবারের উপার্জনকারী সদস্য মারা গেলে স্ত্রী ও সন্তানরা গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। তিনি জানান, এই ধরনের ঘটনায় স্বামী হারানো নারীদের স্থানীয়ভাবে ‘বাঘ বিধবা’ বলা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা আর্থিক সংকটে পড়ে এবং পরিবারের পুরো দায়িত্ব একাই বহন করতে হয়। তাই তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিশেষ ভাতা চালু করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
গাজী নজরুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, অতীতে এ বিষয়ে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের সময় বাঘের আক্রমণে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সহায়তায় একটি প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সেই পরিকল্পনায় বাঘ বিধবাদের জন্য ভাতা চালু এবং তাদের পরিবারকে সহায়তা দিতে একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের কথাও ভাবা হয়েছিল। এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জমি অধিগ্রহণসহ কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। পরিকল্পনায় একটি কেন্দ্র স্থাপন করে বিধবা নারীদের সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং পরিবারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে বিভিন্ন কারণে সেই উদ্যোগ আর বাস্তবায়ন হয়নি।
সংসদ সদস্য বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে তার প্রত্যাশা—উপকূলীয় অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় বাঘের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হবে। পাশাপাশি তাদের সন্তানদের শিক্ষা, পুনর্বাসন ও জীবিকা নিশ্চিত করতে পূর্বের পরিকল্পনাগুলো নতুন করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তিনি মনে করেন, সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার মানুষের জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ পেশার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসব পরিবারের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কিছুটা আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা পাবে।