পবিত্র ঈদুল ফিতরের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। ঈদকে সামনে রেখে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই ইতিমধ্যে ঈদের বাজার করা শুরু করেছেন। এতে রাজধানীর খুচরা বাজারে কিছু পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত এক সপ্তাহে পোলাওয়ের চাল, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি, গরুর মাংস এবং ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে। তবে চিনি, সেমাই ও মসলাজাতীয় কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, নিউ মার্কেট ও তুরাগ এলাকার বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ভোজ্য তেলের দামে বৃদ্ধি-
বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বোতলজাত তেলের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে পাঁচ লিটারের বোতল বাজারে কম পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৮৫ থেকে ১৯৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা। একইভাবে খোলা পাম তেলও লিটারপ্রতি ৬ থেকে ১৩ টাকা বেড়ে এখন ১৬৩ থেকে ১৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলও ৩০ টাকা বেড়ে ৯৫০ থেকে ৯৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পোলাও চালের দাম বেড়েছে-
ঈদে পোলাওয়ের চালের চাহিদা বাড়ায় চিনিগুঁড়া চালের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্যাকেটজাত চিনিগুঁড়া চাল কেজিপ্রতি ১৫৫ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা। খোলা চিনিগুঁড়া চাল এখন ১২৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ১১০ থেকে ১৩০ টাকা।
মুরগি ও মাংসের বাজার-
ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে কেজিপ্রতি ২১০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। সোনালি মুরগির দামও বেড়ে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায় উঠেছে, যা আগে ছিল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা।গরুর মাংসের দামও বেড়েছে। তুরাগ এলাকার বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা কেজি দরে। আর শান্তিনগর ও নিউ মার্কেট এলাকায় তা ৮০০ থেকে ৮২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল-
অন্যদিকে চিনি, সেমাই, পেঁয়াজ, আদা ও রসুনসহ কিছু পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে চিনি কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৪০ টাকা কেজিতে। আমদানিকৃত আদা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা এবং রসুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে ততই বাজারে ক্রেতার চাপ বাড়বে। ফলে কিছু পণ্যের দামে আরও ওঠানামা হতে পারে।
ক্রেতারা বলছেন, ঈদ উপলক্ষ্যে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে বাজারে সরকারি তদারকি বাড়ানো জরুরি। এতে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে।