হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের ট্যাংকার পারাপারে মার্কিন নৌবাহিনী পাহারা দিয়েছে—এমন দাবি ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে কটাক্ষ করেছে ইরান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে দাবি করেন, মার্কিন নৌবাহিনী সফলভাবে একটি তেলের ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী পার করে নিরাপদে নিয়ে গেছে। তবে পোস্টটি প্রকাশের প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সেটি মুছে ফেলা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে উপহাস করে বলেন, এটি বৈশ্বিক তেলের বাজারে প্রভাব ফেলার একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসও দ্রুত বিষয়টি অস্বীকার করে জানিয়েছে, ওই দাবি সঠিক নয়।
বিতর্ক শুরু হয় যখন ক্রিস রাইট দাবি করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের মধ্যেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে কাজ করছে। তবে পরে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট স্পষ্ট করে জানান, এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ বা তেলের ট্যাংকারকে মার্কিন নৌবাহিনী পাহারা দেয়নি। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক ট্যাংকার সুরক্ষায় কোনো সামরিক অভিযান এখনো শুরু হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই কৌশলগত জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত অপতথ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক মন্তব্যে তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে, তবে এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব তেলের বাজার বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়তে পারে, যার প্রভাব অতীতের আরব তেল অবরোধ বা কুয়েত আক্রমণের সময়ের সংকটকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধ নিয়ে জনমতের বিরোধিতাও বাড়ছে। কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ মার্কিন ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিপক্ষে। অন্যদিকে রয়টার্স-ইপসোসের আরেক জরিপে এই বিরোধিতার হার ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি