যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার থেকে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া ছয়টি শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে

মার্কিন সামরিক বাহিনী ৬টি পারমাণবিক বোমা হারিয়ে ফেলেছে

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১১ মার্চ ২০২৬, দুপুর ২:১০ সময় , আপডেট সময় : ১১ মার্চ ২০২৬, দুপুর ২:১০ সময়

যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার থেকে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া ছয়টি শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মার্কিন সামরিক ভাষায় যেসব পারমাণবিক দুর্ঘটনাকে ‘ব্রোকেন অ্যারো’ বলা হয়, সেসব ঘটনার মধ্যে ৩২টির মধ্যে ছয়টি বোমার অবস্থান আজও অজানা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এই হারিয়ে যাওয়া অস্ত্রগুলো নিয়ে নতুন করে নিরাপত্তা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ এসব বোমা যদি কোনোভাবে শত্রু রাষ্ট্র বা সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে পৌঁছে যায়, তাহলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ‘ডুমসডে প্লেন’ ইরানের দিকে মোতায়েন করেছে। বোয়িং ৭০৭ এয়ারফ্রেমের ওপর নির্মিত এই বিমানগুলো মূলত পারমাণবিক হামলার পরিস্থিতিতে আকাশ থেকেই সামরিক নির্দেশনা ও পাল্টা আঘাত পরিচালনার জন্য তৈরি।


মার্কিন কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, যেহেতু তারা এখন পর্যন্ত এই বোমাগুলো খুঁজে পায়নি, তাই প্রতিদ্বন্দ্বীরাও সহজে এগুলোর সন্ধান পাবে না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রের গভীরে বা দুর্গম এলাকায় পড়ে থাকা এসব পারমাণবিক অস্ত্র এখনও ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ঘটানোর সক্ষমতা রাখে। নিখোঁজ অস্ত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে ১৯৫৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টাইবি দ্বীপের কাছে। তখন একটি বি-৪৭ হাইড্রোজেন বোমারু বিমান মাঝ আকাশে অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পাইলটকে বহন করা ‘মার্ক ১৫’ হাইড্রোজেন বোমাটি সমুদ্রে ফেলে দিতে হয়।


প্রথমে এটিকে একটি ডামি বা অনুশীলন বোমা বলা হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, সেটি আসলে পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক অস্ত্র ছিল। বহু অনুসন্ধান চালানো হলেও আজ পর্যন্ত সেই বোমার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। একইভাবে আরও পাঁচটি পারমাণবিক বোমা গত কয়েক দশকে সমুদ্রের তলদেশ বা দুর্গম এলাকায় হারিয়ে গেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি এবং পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর পাল্টাপাল্টি হুমকির কারণে এই নিখোঁজ অস্ত্রগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যদি কোনো দেশ সমুদ্রের গভীরে অনুসন্ধান চালায়, তাহলে এসব অস্ত্র উদ্ধার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি পেন্টাগনকে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এতে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা আবারও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘ব্রোকেন অ্যারো’ নামে পরিচিত এসব পুরনো দুর্ঘটনা শুধু ইতিহাসের বিষয় নয়; বরং এগুলো আজও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে।


সূত্র: মিরর ইউএস

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯