মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে এবার ইরানের তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যুদ্ধের নবম

তেল স্থাপনায় হামলা: তেহরানে সড়কের পাশে ‘আগুনের নদী’ ইত্তেফাক ডিজিটাল ডেস্ক

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৯ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:৪২ সময় , আপডেট সময় : ৯ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:৪২ সময়

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে এবার ইরানের তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যুদ্ধের নবম দিনে রোববার (৮ মার্চ) রাজধানী তেহরান ও আশপাশের এলাকায় একাধিক তেল ডিপো ও শোধনাগারে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। হামলার পর তেহরানের আকাশজুড়ে ভয়াবহ আগুন ও ঘন ধোঁয়ার দৃশ্য দেখা যায়। আগুনের লেলিহান শিখায় রাতের আকাশ লালচে হয়ে ওঠে। কিছু এলাকায় তেল নালায় ছড়িয়ে পড়ায় সড়কের পাশে ‘আগুনের নদী’ তৈরি হয়েছে বলে ভিডিওতে দেখা গেছে। দিনের বেলাতেও ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে যায়।


এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলার প্রথম দিকে ইরানের সামরিক স্থাপনা ও শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করা হয়েছিল। তবে এবার সরাসরি জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হওয়ায় পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই হামলার জবাবে ইরান সৌদি আরব, কুয়েত ও জর্ডানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। সৌদি আরবের আল-খার্জ এলাকায় একটি কম্পাউন্ডে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে একজন বাংলাদেশি ও একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হন।


কুয়েতেও বিমানবন্দর, জ্বালানি ডিপো ও নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে দুজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতির কারণে কুয়েত তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে ইরান ইসরায়েলের তেল আবিব ও হাইফাসহ কয়েকটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে আরও তিনজন আহত হন। ইরাকের এরবিল শহরে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।


ইরানের পাশাপাশি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সেখানে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে দুই সেনা নিহত হয়েছেন। লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এমন সময় আসতে পারে যখন ইরানে আত্মসমর্পণ ঘোষণা করার মতো কেউ থাকবে না। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তার দেশ হামলার বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং কঠোর জবাব দেবে।


ইরানের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেহরান ও আলবোরজ প্রদেশের কারাজ শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলা হয়েছে। এতে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তেহরানের শাহরান তেলের ডিপোতে হামলার পর বিধ্বস্ত অবকাঠামো থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ে আগুন ধরে যায়। এতে সড়কের পাশে আগুনের স্রোতের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। তেহরানের এক বাসিন্দা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিস্ফোরণের ভয়াবহতা দেখে মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবীর শেষ সময় শুরু হয়েছে।


এদিকে তেল স্থাপনায় হামলার ফলে বিষাক্ত বৃষ্টির আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট। এতে ত্বক ও ফুসফুসের ক্ষতির ঝুঁকি থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে তেহরান প্রশাসন নাগরিকদের জন্য জ্বালানি সংগ্রহের সীমা কমিয়ে দিয়েছে। এখন একজন ব্যক্তি দিনে সর্বোচ্চ ২০ লিটার তেল নিতে পারবেন, যেখানে আগে সীমা ছিল ৩০ লিটার।


বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে এই হামলা যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯