যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কা, ব্যারেল প্রতি ছাড়াল ১০০ ডলার

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৯ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:২৯ সময় , আপডেট সময় : ৯ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:২৯ সময়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার ফলে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। ২০২২ সালের পর এটিই প্রথমবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো। খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। সোমবার (৯ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেল সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ দ্রুত বেড়েছে। এর ফলে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে তেলের দাম এবং একই সঙ্গে বিশ্ব শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।


সপ্তাহান্তে ইরানের রাজধানী তেহরান ও আশপাশের অন্তত পাঁচটি জ্বালানি স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ওই হামলার পর তেহরানের কিছু এলাকায় ধ্বংসস্তূপের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একই সময়ে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় কুয়েতের জাতীয় তেল কোম্পানিও সতর্কতামূলকভাবে উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে। সাধারণত সমুদ্রপথে পরিবাহিত বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।


আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে লেনদেন শুরুর সময় ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ দশমিক ১০ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১০৮ দশমিক ৭২ ডলারে দাঁড়ায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব নিরাপত্তা রক্ষার জন্য স্বল্পমেয়াদি মূল্য। তার মতে, ইরানের পারমাণবিক হুমকি শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে।


তবে ইরান পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, হামলা অব্যাহত থাকলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, যদি বিশ্ব ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারের তেলের দাম মেনে নিতে পারে, তাহলে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। এদিকে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। সোমবার টোকিওতে জাপানের নিক্কেই সূচক ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক কমেছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক প্রায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ নিচে নেমেছে।


বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি বিশ্ববাজারে বড় চাপ তৈরি করেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বছরের শুরুতে যেখানে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬০ ডলার, এখন তা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বেড়ে গেছে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রীও সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উৎপাদন কমাতে বা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।


এদিকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী শত শত তেলবাহী জাহাজ এখন কার্যত স্থবির হয়ে আছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হুমকি দিয়েছে, এই পথ ব্যবহার করলে যেকোনো জাহাজের ওপর হামলা চালানো হতে পারে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯