অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘব করে তাদের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্য নিয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করে

মাস্তুল ফাউন্ডেশনের এক দশকের সাফল্য

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৮ মার্চ ২০২৬, দুপুর ২:৩৬ সময় , আপডেট সময় : ৮ মার্চ ২০২৬, দুপুর ২:৩৬ সময়

অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘব করে তাদের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্য নিয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছে দেশের অন্যতম দাতব্য প্রতিষ্ঠান মাস্তুল ফাউন্ডেশন। ২০১২ সালে একদল তরুণকে সঙ্গে নিয়ে কাজী রিয়াজ রহমান যে মানবিক উদ্যোগ শুরু করেছিলেন, তা আজ বিস্তৃত হয়ে হাজারো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সহায়তার সমন্বয়ে মাস্তুল ফাউন্ডেশন বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানবিক সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা কাজী রিয়াজ রহমান বলেন, এই সংগঠনের লক্ষ্য কেবল সাহায্য দেওয়া নয়, বরং অবহেলিত মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং তাদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়া।


বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে টিউশনের অর্থ বাঁচিয়ে পথশিশুদের পড়ানো থেকেই শুরু হয়েছিল কাজী রিয়াজ রহমানের মানবিক যাত্রা। বর্তমানে তিনি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের টেকসই উন্নয়নে দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করছেন। তার পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে মাস্তুল ফাউন্ডেশন একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক মানবিক সংগঠন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সরকারের অধীনে নিবন্ধিত একটি সেবামূলক সংগঠন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরো থেকে নিবন্ধন পাওয়ার পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এসআরও সনদও রয়েছে। বেওয়ারিশ মরদেহ দাফনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিও পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। গাজা ও সুদানের মানবিক সংকটে প্রতিষ্ঠানটির স্বেচ্ছাসেবীরা পুষ্টিকর খাবার ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে স্কুল, মাদ্রাসা ও এতিমখানা পরিচালনা, যেখানে এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি যাকাতভিত্তিক স্বাবলম্বী প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারকে রিকশা, সেলাই মেশিন বা ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজি দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় সুদমুক্ত ঋণ দিয়ে অসচ্ছল মানুষকে ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বৃদ্ধাশ্রম ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবহেলিত প্রবীণদের আবাসন, চিকিৎসা ও খাদ্যসেবা দেওয়া হয়।


মাস্তুল মেহমানখানা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন শত শত অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষ বিনামূল্যে খাবার গ্রহণের সুযোগ পান। পাশাপাশি নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন এলাকায় ওয়াশ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।


দাফনসেবা, অ্যাম্বুলেন্স ও অক্সিজেন সহায়তার মতো জরুরি মানবিক কার্যক্রমও পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। করোনা মহামারির সময় থেকে এখন পর্যন্ত হাজারো বেওয়ারিশ মরদেহ সসম্মানে দাফন করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের উদ্যোগে একটি মরদেহ গোসলখানাও স্থাপন করা হয়েছে। মানবিক সেবাকে আরও বিস্তৃত করতে মাস্তুল ফাউন্ডেশন একটি দশতলা ইসলামিক শেল্টারহোম কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে থাকবে মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, স্কুল ও বৃদ্ধাশ্রমসহ বিভিন্ন সুবিধা। উদ্দেশ্য হলো আশ্রয়হীন ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক আবাস নিশ্চিত করা।


মাস্তুল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিতে দেওয়া যেকোনো দান, যাকাত বা সাদাকা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিধান অনুযায়ী আয়কর রেয়াতযোগ্য। মানবিক সহায়তার মাধ্যমে একটি সহমর্মিতাপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯