জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে পড়া ১৪টি খাল পুনঃখনন করা হলে পানির প্রবাহ বাড়বে এবং মানুষের

খননের অভাবে মৃতপ্রায় ইসলামপুরের ১৪ খাল

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৮ মার্চ ২০২৬, দুপুর ২:১৭ সময় , আপডেট সময় : ৮ মার্চ ২০২৬, দুপুর ২:১৭ সময়

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে পড়া ১৪টি খাল পুনঃখনন করা হলে পানির প্রবাহ বাড়বে এবং মানুষের জীবন-জীবিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদবিধৌত এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। উর্বর মাটির জন্য কৃষি উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও সেচ ব্যয় বাড়া এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়ায় কৃষকেরা নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন। এ অঞ্চলে ধান, পাট, আখ, সরিষা, তামাক, চিনাবাদাম, মসুর, ভুট্টা ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষ হয়। পাশাপাশি মাছ ধরা, তাঁত, কামার-কুমার পেশা, ছোট ব্যবসা ও নকশিকাঁথা তৈরির মতো কুটির শিল্পও স্থানীয় মানুষের আয়ের উৎস। তবে দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেচ সংকট এবং জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকসহ সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মোট ১৪টি খাল রয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধা ইউনিয়নের প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ জিয়া খাল, পাথর্শী ইউনিয়নের প্রায় ৬ কিলোমিটার জিয়া খাল, লাওদত্ত ব্রিজ থেকে পাথরঘাটা পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার পুটি খাল এবং পাথরঘাটা থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ পর্যন্ত পুরাতন ব্রহ্মপুত্র খাল উল্লেখযোগ্য। এছাড়া বলিয়াদহ খাল, ঢেংগারগড় খাল, পচাবহলা খাল, বাটিকামারী খাল, কাঠমা-কৃষ্ণনগর খাল, মাইজবাড়ী খাল, চর টগা খাল, চর নন্দনের পাড় খাল, চর পুটিমারী খাল ও ব্রহ্মপুত্র খালসহ আরও কয়েকটি খাল দীর্ঘদিন খননের অভাবে প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে।


স্থানীয়দের মতে, এসব খাল খনন ও পুনঃখনন করা হলে জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং দেশীয় মাছের প্রজনন বৃদ্ধি পাবে। খালগুলোতে সারা বছর পানি থাকলে স্থানীয়দের আমিষের চাহিদা পূরণ হওয়ার পাশাপাশি নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে কৃষকেরা স্বল্প খরচে সেচ সুবিধা পেয়ে হাজার হাজার বিঘা জমিতে চাষাবাদ করতে পারবেন। পতিত ব্রহ্মপুত্র খালের কৃষক হবি মন্ডল বলেন, আগে খাল থেকে সহজেই জমিতে পানি এনে চাষাবাদ করা যেত। এখন খাল শুকিয়ে যাওয়ায় সেচ পাম্প ব্যবহার করতে হয়, এতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। খালটি পুনঃখনন করা হলে বছরে একাধিক ফসল ফলানো সম্ভব হবে।


গাইবান্ধা ইউনিয়নের কৃষক মোশারফ হোসেন জানান, একসময় প্রায় ২০টি গ্রামের কৃষক জিয়া খালের পানির ওপর নির্ভর করতেন। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় খালটি ভরাট হয়ে গেছে, ফলে সেচের সংকটের পাশাপাশি দেশীয় মাছও কমে গেছে। চর পুটিমারী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য জবেদ আলী বলেন, জিয়া খাল পুনঃখনন করা হলে অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজুয়ানুল ইফতেখার জানান, খালগুলো খনন করা হলে জীববৈচিত্র্যের উন্নতি হবে। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।


সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, সরকার সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের একটি বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়েছে। এর আওতায় ইসলামপুর উপজেলার খাল পুনঃখননের উদ্যোগও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯