মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। অনেকেই অতিরিক্ত তেল মজুত করার চেষ্টা করছেন। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট এড়াতে আগামী রোববার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শুক্রবার পরীবাগ এলাকার একটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে শিগগিরই পেট্রোল পাম্পগুলোকে লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। তার মতে, দেশের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল আছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে সরকার স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি তেল সরবরাহ করেছে। অনেক ক্রেতাই আতঙ্কের কারণে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল নিচ্ছেন বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এই অযথা আতঙ্ক দূর করতে হবে এবং সবাইকে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চাপ তৈরি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে সরকার চেষ্টা করছে যাতে দেশে জ্বালানির দাম না বাড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং এ বিষয়ে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করছে।