ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান অষ্টম দিনে গড়িয়েছে। শনিবার পর্যন্ত দুই দেশ একযোগে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত এই সামরিক অভিযান বন্ধ হবে না। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গত সপ্তাহে তেহরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের তিন হাজারের বেশি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ড সেন্টার এবং সামরিক যোগাযোগ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
মার্কিন পক্ষ দাবি করেছে, অভিযানের সময় ইরানের ৪৩টি সামরিক জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অন্তত ৪৯ জন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দর মেহরাবাদে ইসরায়েলি হামলার ফলে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমানবন্দরের আশপাশে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে যুদ্ধের মধ্যেই ইরানে ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। প্রথম দিনের তুলনায় তা প্রায় ৮৬ শতাংশ কমেছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে আরও ২৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।