নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় সরকারের রাজস্বভুক্ত শতাধিক পুকুর দীর্ঘদিন ধরে মামলার আড়ালে অবৈধভাবে দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী

নওগাঁয় মামলার ফাঁদে শতাধিক পুকুর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৭ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:৩১ সময় , আপডেট সময় : ৭ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:৩১ সময়

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় সরকারের রাজস্বভুক্ত শতাধিক পুকুর দীর্ঘদিন ধরে মামলার আড়ালে অবৈধভাবে দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। জনস্বার্থ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের কথা বলে আদালতে মামলা করে তারা এসব পুকুর বছরের পর বছর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ভোগদখল করছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাণীনগরে মোট ৫৮৫টি খাস পুকুর রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১৫টি পুকুর বিভিন্ন ব্যক্তি জনসাধারণের নাম ব্যবহার করে মামলার মাধ্যমে নিজেদের আওতায় নিয়েছেন। পরে এসব পুকুর অন্যদের কাছে ইজারা দিয়ে তারা লাভবান হচ্ছেন, অথচ সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না।


সরেজমিনে দেখা গেছে, যে পুকুর থেকে সরকার বছরে প্রায় ৫ লাখ টাকা রাজস্ব পেতে পারত, সেই পুকুর এখন নামমাত্র মূল্যে ইজারা দেওয়া হচ্ছে। মামলার কারণে সরকার এসব পুকুর ইজারা দিতে না পারায় বছরের পর বছর ধরে বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুকুরগুলো জনস্বার্থে বা মসজিদ-মাদ্রাসা-মন্দিরের উন্নয়নের নামে মামলায় জড়ানো হলেও সেখান থেকে আয় হওয়া অর্থের খুব সামান্য অংশই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়। অধিকাংশ অর্থই প্রভাবশালীদের হাতে চলে যায়।


তথ্য অনুযায়ী, কালীগ্রাম ইউনিয়নের রামজীবনপুর মৌজার একটি পুকুর ১৯৮৮ সালে জনস্বার্থের কথা বলে মামলার মাধ্যমে ইজারা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে আবার নতুন করে মামলা করে সেটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগতভাবে ভোগদখল করা হচ্ছে। একই ইউনিয়নের আমগ্রাম মৌজার কয়েকটি পুকুর নিয়েও একইভাবে মামলা করা হয়। পরে সেগুলোও দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগতভাবে দখলে রেখে ইজারা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দির কমিটির সদস্যরা জানান, পুকুরগুলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে মামলায় নেওয়া হলেও বাস্তবে সেখান থেকে তেমন কোনো অর্থ তারা পান না।


উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করার সুযোগ নেই। মিথ্যা মামলা দিয়ে যারা বছরের পর বছর খাস পুকুর দখলে রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, মামলাগুলো নিষ্পত্তি করে পুকুরগুলো দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩১টি পুকুরের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্ধার করে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯