মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের সরাসরি ধাক্কা এখনো চীনের অর্থনীতিতে বড়ভাবে লাগেনি। তবে পরিস্থিতির প্রভাব ধীরে ধীরে অনুভব করতে শুরু

ইরান যুদ্ধ নিয়ে দোলাচলে চীন, কষছে হিসাব

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৭ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:২৪ সময় , আপডেট সময় : ৭ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:২৪ সময়

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের সরাসরি ধাক্কা এখনো চীনের অর্থনীতিতে বড়ভাবে লাগেনি। তবে পরিস্থিতির প্রভাব ধীরে ধীরে অনুভব করতে শুরু করেছে বেইজিং। স্বল্পমেয়াদে কয়েক মাসের জন্য পর্যাপ্ত তেলের মজুত থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য শুধু জ্বালানির উৎস নয়, চীনের কৌশলগত অর্থনৈতিক পরিকল্পনারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তা চীনের বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে বেইজিংয়ে চলতি সপ্তাহে কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে। ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়া, সম্পত্তি খাতের দীর্ঘ সংকট এবং স্থানীয় ঋণের চাপের মধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি কীভাবে এগোবে, সেটিই মূল আলোচ্য বিষয়। ১৯৯১ সালের পর প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছে চীন। যদিও উচ্চপ্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দ্রুত উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধও দেশটির অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘ হলে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হবে হরমুজ প্রণালীর জাহাজ চলাচল নিয়ে। এই পথ দিয়ে চীনের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন হয়। পথটি বন্ধ হয়ে গেলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লাগতে পারে। তবে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও চীন সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না। দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা থাকলেও তা মূলত লেনদেনভিত্তিক বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এদিকে বেইজিং ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, একটি সার্বভৌম দেশের ওপর হামলা ও সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।


বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও বৈশ্বিক সামরিক প্রভাবের ক্ষেত্রে চীন এখনো যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তি হয়ে ওঠেনি। তাই মিত্র দেশগুলোর পাশে সরাসরি সামরিকভাবে দাঁড়ানোর সক্ষমতাও সীমিত। এই পরিস্থিতিতে চীন কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে বেইজিং জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে তারা বিশেষ দূত পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।


তবে একই সঙ্গে চীন সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ মাসের শেষ দিকে চীন সফরের সম্ভাবনা রয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯