ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে ‘স্বঘোষিত রাজসাক্ষী’ হিসেবে উল্লেখ করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন বাহ্যিকভাবে ভোটগ্রহণ মোটামুটি গ্রহণযোগ্য মনে হলেও সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ আসতে থাকে। তিনি দাবি করেন, অনেক জায়গায় জামায়াতের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং কোথাও কোথাও শুরুতেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি। প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে ব্যালট কাটার মতো অনিয়মের অভিযোগও তাদের কাছে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তাহের জানান, এসব অনিয়মের অভিযোগে ইতোমধ্যে প্রায় ৫৩টি আসনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে দলটি এবং বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি একজন ‘রাজসাক্ষী’ পাওয়া গেছে, যিনি হলেন সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তার এক বক্তব্যের সূত্র ধরে এই দাবি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তাহের অন্তর্বর্তী সরকারের আরেক সাবেক উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানেরও সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, খলিলুর রহমান ‘লন্ডন ষড়যন্ত্রের’ প্রধান পরিকল্পনাকারী এবং পরে তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে তাকে অপসারণ এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিশির মনির এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য জাহিদুর রহমান।