মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বিমান চলাচলেও। ইরান, ইরাক, কুয়েতসহ কয়েকটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ দিনের মতো আকাশপথ বন্ধ থাকায় এক দিনেই ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, গত ছয় দিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স মিলিয়ে মোট ২১০টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, আকাশপথ বন্ধের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি বাতিল হয় ২৩টি ফ্লাইট। এরপর ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি এবং ৪ মার্চ ২৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। আজ বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ, কুয়েত এয়ারওয়েজ, জাজিরা এয়ারওয়েজ ও এয়ার অ্যারাবিয়ার একাধিক ফ্লাইট। এছাড়াও এমিরেটস, গালফ এয়ার, ফ্লাই দুবাই এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কয়েকটি ফ্লাইটও বাতিলের তালিকায় রয়েছে।
এদিকে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ, দাম্মাম, দোহা ও কুয়েতগামী সব নিয়মিত ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় বিকল্প রুটেও ফ্লাইট পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে হাজার হাজার প্রবাসী শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি প্রবাসী কর্মীদের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আটকে পড়া যাত্রীদের দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।