মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। তবে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি এবার নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতাদের ধর্মীয় ভাষা ও প্রতীকী বক্তব্য ঘিরে। মার্কিন পর্যবেক্ষক সংস্থা মিলিটারি রিলিজিয়াস ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (এমআরএফএফ) জানিয়েছে, কিছু মার্কিন সেনাকে পাঠানো ইমেইলে বলা হয়েছে—ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত নাকি বাইবেলে বর্ণিত ‘আর্মাগেডন’ বা শেষ সময়ের যুদ্ধের সূচনা হতে পারে।
এই বক্তব্য সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মুসলিম অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স (সিএআইআর) তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের ধর্মীয় ভাষা ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি ইরানে বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে হামলাকে ন্যায্যতা দেওয়ার একটি কৌশল। এমআরএফএফের কাছে আসা এক অভিযোগে বলা হয়েছে, এক মার্কিন কমান্ডার তার ইউনিটকে জানিয়েছেন—প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নাকি “ঈশ্বরের পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে” ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ শুরু করার জন্য, যা যিশুখ্রিষ্টের পৃথিবীতে পুনরাগমনের পথ তৈরি করবে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তোরাহ ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে ইরানকে প্রাচীন বাইবেলীয় শত্রু ‘আমালেক’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। ইহুদি ঐতিহ্যে এই নামটি সম্পূর্ণ অশুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই সংঘাতকে কেবল রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে নয়, বরং “সভ্যতার লড়াই” হিসেবে তুলে ধরছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও ইরান সরকারকে “উগ্র ধর্মীয় উন্মাদ” বলে আখ্যা দিয়েছেন, আর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন—ইরান নাকি “ধর্মীয় বিভ্রমে আক্রান্ত”।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকে ধর্মীয় ভাষায় উপস্থাপন করলে জনমত সহজে প্রভাবিত করা যায় এবং সংঘাতকে “সৎ বনাম অসৎ” এই সরল কাঠামোর মধ্যে ফেলা যায়। তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যখন কোনো সংঘাতকে পবিত্র যুদ্ধের রূপ দেওয়া হয়, তখন রাজনৈতিক সমঝোতার পথ অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায় এবং সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।