ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের প্রভাব এখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। জ্বালানি অর্থনীতিবিদ এবং হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার এড হির্স এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবহন হয়। এই পথে তেল সরবরাহ আংশিক বন্ধ হলেও বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্চের শুরু পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১ ডলারের বেশি বেড়ে প্রায় ৮৩ ডলারে পৌঁছেছে। শুধু তেল নয়, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পরপরই এলএনজির দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। ইতিমধ্যে ইরাক তাদের দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এশিয়া ও ইউরোপের শিল্পখাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন শুধু সামরিক নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতির জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।