মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাত আরও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় যুদ্ধ পরিচালনা করার মতো সামরিক সক্ষমতা তাদের রয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ছে। তেল আবিব ও হাইফাসহ বিভিন্ন শহরে একাধিকবার হামলার সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং হাজার হাজার রিজার্ভ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও ইসরায়েলের ভেতরে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন বেশ শক্তিশালী। অনেক নাগরিক মনে করেন, ইরান তাদের দেশের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থনও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘ হলে ইসরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখা। যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনেই ইরান শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। যদিও ইসরায়েলের আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং এবং অ্যারো-৩ এর মতো শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদি হামলা চলতে থাকলে প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে ইসরায়েলের অর্থনীতিতেও। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজা ও লেবাননে সামরিক অভিযানে দেশটির ব্যয় কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের ঋণমান কমিয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা কম। কারণ যুক্তরাষ্ট্র যদি অস্ত্র সহায়তা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইসরায়েল দীর্ঘ সময় সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে সক্ষম হতে পারে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্যও একটি বড় উদ্বেগ হয়ে উঠছে।