পুলিশ বাহিনীর পোশাক পরিবর্তন নিয়ে সদস্যদের মতামত জানতে দেশজুড়ে জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। মাত্র তিন মাস আগে অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশের পোশাকে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর নতুন পোশাক নিয়ে বাহিনীর ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সেই প্রেক্ষাপটেই সদস্যদের মতামত যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাহিনীর বিভিন্ন পদমর্যাদার দুই লাখেরও বেশি সদস্য এই জরিপে অংশ নিচ্ছেন। জরিপে মূলত তিনটি বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে—আগের পোশাকের পক্ষে কত শতাংশ সদস্য, বর্তমান পোশাকের পক্ষে কত শতাংশ এবং কতজন নতুন ধরনের পোশাক চান।
এ বিষয়ে মতামত সংগ্রহের কাজ গত রবিবার থেকে শুরু করেছেন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানরা। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ইউনিটগুলোকে কল্যাণ সভা আয়োজন করে সদস্যদের মতামত সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই চিঠিতে সোমবারের মধ্যে জরিপের ফল সদর দপ্তরে পাঠাতে বলা হয়। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে সব পর্যায়ের সদস্যদের মতামত জানতে চান নীতিনির্ধারকরা। জরিপে যে মতামত বেশি পাওয়া যাবে, সেটি বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কল্যাণ সভা আয়োজন করে সদস্যদের মতামত নেওয়া হয়েছে। এরপর সেই তথ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পুলিশের নতুন পোশাক নিয়ে কিছু সদস্যের অনীহার বিষয়টি সামনে আসে। এ নিয়ে ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এবং নন-ক্যাডার সদস্যদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন পৃথক বিবৃতিতে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানায়। দুই সংগঠনই পুলিশের আগের খাকি পোশাক বহাল রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করেছে। বর্তমানে জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।