ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই ভিন্নমত সামনে এসেছে। একদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছিলেন

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দায় নিজ কাঁধে নিলেন ট্রাম্প

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৪ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:৩৬ সময় , আপডেট সময় : ৪ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:৩৬ সময়

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই ভিন্নমত সামনে এসেছে। একদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছিলেন যে ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি লড়ছে। তবে সেই বক্তব্য থেকে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেছেন, ইসরাইল তেহরানে হামলার উসকানি দেয়নি। বরং পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রই এই সামরিক অভিযানে ইসরাইলকে যুক্ত করেছে। তার মতে, ইরান আগে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।


মঙ্গলবার (৩ মার্চ) হোয়াইট হাউসে জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে বৈঠকের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন বাহিনীর হামলায় ইরানের বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে প্রায় এক হাজার সাতশোর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, অভিযান শেষ হওয়ার আগেই ইরানের প্রতিরক্ষা কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়বে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তার ধারণা ছিল ইরান প্রথমে আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেই সম্ভাবনা ঠেকাতেই ইসরাইলের সহযোগিতায় আগাম অভিযান শুরু করা হয়েছে। তার দাবি, এই হামলার ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিও দ্রুত কমে আসছে। ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হবে যদি নতুন নেতা আগের মতোই কঠোর নীতি অনুসরণ করেন। নির্বাসিত রাজপুত্র রেজা পাহলভিকে তিনি সম্ভাব্য নেতা হিসেবে উপযুক্ত মনে করেন না। বরং ইরানের ভেতর থেকেই নতুন নেতৃত্ব উঠে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।


এদিকে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা এখন আর নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর ইরান আলোচনা করতে চেয়েছিল, কিন্তু এখন সেই সুযোগ শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে ৩ মার্চ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মুজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করা হয়েছে। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর চাপেই ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থানে সামরিক হামলা শুরু করে। রাজধানী তেহরানে চালানো ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা নিহত হন বলে দাবি করা হয়। এর জবাবে ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও আঘাত হানছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯