নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি লাশ গোসলের স্থান দখল করে সেখানে পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় আট দশক ধরে কমিউনিটির প্রয়োজনে ব্যবহৃত এই জায়গাটি সম্প্রতি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪০-এর দশকে সরকারি অনুমোদনে প্রায় ৪০টি উদ্বাস্তু পরিবার সিদ্ধিরগঞ্জের ওমরপুর এলাকায় বসতি স্থাপন করে। সেই সময় থেকেই প্রায় এক শতাংশ জমি খোলা জায়গা হিসেবে সংরক্ষিত ছিল, যেখানে এলাকার মৃত ব্যক্তিদের লাশ গোসল করানোর ব্যবস্থা করা হতো। দীর্ঘদিন ধরে এটি কমিউনিটির সাধারণ ব্যবহারের জায়গা হিসেবে পরিচিত ছিল।
কিন্তু সম্প্রতি আব্দুল মান্নান মনা ওরফে ড্রাইভার মনা নামে এক ব্যক্তি ওই স্থানে পাকা ঘর নির্মাণ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছেন এবং এটি অন্য একজনের কাছে বিক্রি করার উদ্যোগও নিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইতোমধ্যে ওই জমি বিক্রির জন্য এক ব্যক্তির কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, এই জায়গাটি শুধু একটি জমি নয়, বরং দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় প্রয়োজনের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তাদের মতে, এটি দখল হয়ে গেলে ভবিষ্যতে মৃত ব্যক্তিদের গোসল করানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট জায়গা থাকবে না। অভিযুক্ত ব্যক্তি অবশ্য দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি স্বীকার করেন যে জায়গাটি আগে লাশ গোসলের কাজে ব্যবহৃত হতো, তবে তিনি কোনো অবৈধ দখল করছেন না বলে দাবি করেন।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, সরকারি বা কমিউনিটির ব্যবহৃত জমি অবৈধভাবে দখলের কোনো সুযোগ নেই এবং অভিযোগ সত্য হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশও জানিয়েছে, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।