মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত এখন ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালীতে। এর সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি নতুন চাপের মুখে পড়েছে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ৭৯ ডলারের বেশি হয়েছে, যা কয়েকদিন আগেও ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম। পরিস্থিতির অবনতির জন্য মূলত হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়াকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধের ঘোষণা দিয়ে সতর্ক করেছে—কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ফলে এই রুটে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে এবং বহু জাহাজ মাঝপথে আটকা পড়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি ইতোমধ্যে বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। আফ্রিকার কেপ অফ গুড হোপ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ায় সময় ও পরিবহন ব্যয় দুটোই বেড়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধকালীন বিমার অতিরিক্ত খরচ, যা বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু তেলের বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়—বরং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনেও অস্থিরতা তৈরি করছে। এলএনজি সরবরাহ, জ্বালানি অবকাঠামো এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সবই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়, বিশেষ করে এশিয়ার বড় অর্থনীতিগুলো এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, পুরোপুরি প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে তা ইরানের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতে কিছু জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ লাভবান হলেও সাধারণ ভোক্তা ও শিল্পখাত বড় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই সংকট এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় এক সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে।