ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গাজার সব সীমান্ত পারাপার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। এতে উপত্যকাটির প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দা নতুন করে এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের সংঘাতের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই এই অবরোধ গাজায় খাদ্য সংকটকে তীব্র করে তুলেছে। ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, তাদের হাতে থাকা খাদ্য মজুত আর মাত্র কয়েক দিন চলবে। বিশ্বখ্যাত সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন জানিয়েছে, সীমান্ত বন্ধ থাকলে চলতি সপ্তাহেই তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সংস্থাটি প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ মানুষের জন্য খাবার সরবরাহ করে থাকে, যা নতুন সরবরাহ ছাড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে গাজায় মাত্র এক সপ্তাহের তাজা খাদ্য এবং প্রায় ১০ দিনের রুটি তৈরির আটা অবশিষ্ট রয়েছে। এরই মধ্যে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। যেমন, ২৫ কেজি আটার বস্তার দাম এক সপ্তাহে প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে তাদের ঘরবাড়ি ও সঞ্চয় হারিয়েছে, ফলে বাড়তি দামে খাদ্য কিনে টিকে থাকা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, দখলদার শক্তি হিসেবে গাজার বেসামরিক নাগরিকদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসরায়েলের আইনি দায়িত্ব। যুদ্ধ পরিস্থিতি কোনোভাবেই এই দায়িত্ব পালনে বাধা হতে পারে না। যদিও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সরবরাহ বন্ধ রেখেছিল, তবে সীমিত আকারে ত্রাণ প্রবেশের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে তারা।
সব মিলিয়ে, গাজার পরিস্থিতি দ্রুতই এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।