শুধুমাত্র নামের মিল থাকার কারণে বরগুনার বেতাগী উপজেলায় এক নিরপরাধ গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে, একটি এনজিওর দায়ের করা মামলায় আসামি ছিলেন একই ইউনিয়নের অন্য এক নারী। তবে ভুলবশত একই নামের কারণে পুলিশ প্রকৃত আসামির পরিবর্তে আরেক রেহেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে পাঠায়। গ্রেপ্তার হওয়া ওই নারী সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে তার পরিবার ১ মার্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়। আদালতে প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ উপস্থাপনের পর স্পষ্ট হয়, আটককৃত নারী মামলার প্রকৃত আসামি নন। পরবর্তীতে আদালত তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে জামিন মঞ্জুর করেন।
ঘটনাটি নিয়ে আদালত তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তদন্তে অবহেলা এবং ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে কারণ জানতে চেয়ে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সঠিক যাচাই-বাছাই না করায় একজন নিরপরাধ মানুষকে অন্যায়ভাবে কারাভোগ করতে হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ছেলে বলেন, বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেও পুলিশ তাদের কথা শোনেনি, যার ফলে তার মা বিনা অপরাধে দুই দিন হাজতে ছিলেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাটিকে পুলিশের গুরুতর গাফিলতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, গ্রেপ্তারের আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করলে এমন ভুল এড়ানো যেত। তারা প্রকৃত আসামিকে গ্রেপ্তার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এনজিওর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি শুরুতে তাদের জানা ছিল না। পরে বিষয়টি জানার পর তারা সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন।
বেতাগী থানার ওসি জানান, তথ্য বিভ্রাটের কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে এবং এ জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতে যেন এমন ভুল না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।