ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা সংস্থা ইউনেস্কো। সংস্থাটি বলেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি আন্তর্জাতিক আইনে সুরক্ষিত স্থানের ওপর আঘাতের শামিল। এক বিবৃতিতে ইউনেস্কো জানায়, শিক্ষার জন্য নির্ধারিত স্থানে এ ধরনের সহিংসতা মানবিক নীতিমালার পরিপন্থী এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবারের এই হামলায় ১৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষার্থী। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের নাগরিকদের দ্রুত ওই অঞ্চল ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বাহরাইন, মিশর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, গাজা, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশ থেকে নাগরিকদের ‘অবিলম্বে সরে যাওয়ার’ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক না থাকায় অনেকেই কীভাবে অঞ্চলটি ত্যাগ করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে জানিয়েছেন ওয়াশিংটনে অবস্থানরত এক সংবাদদাতা। অন্যদিকে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে। মঙ্গলবার ভোরে দুটি ড্রোন আঘাত হানলেও এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।