চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে গতকাল (২৭ ফেব্রুয়ারি) ৫.৪ মাত্রার একটি মাঝারি কম্পন ছিল। এই কম্পনটি সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি এলাকায় উৎপত্তি হয়েছিল, এবং এটি ঢাকাসহ চট্টগ্রাম পর্যন্ত অনুভূত হয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৪, যা মাঝারি মাত্রার।
ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকে একের পর এক ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে ৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, ৩ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরায় ৪.১ মাত্রার কম্পন রেকর্ড হয়, ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেট অঞ্চলে দুটি ভূমিকম্প ঘটে, ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জে ৪.১ মাত্রার কম্পন ছিল, ২৫ ফেব্রুয়ারি মায়ানমারে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রভাব বাংলাদেশে পড়ে, এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের সিকিমে ৩.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রভাবও বাংলাদেশে অনুভূত হয়। গত নভেম্বরে ঘন ঘন ভূমিকম্পের কারণে দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে এবং প্রস্তুতি নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশ ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত, তাই এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগের অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান বলেন, ঢাকাকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, শহরের ঘনবসতি ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণের কারণে এমন ভূমিকম্পও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সিডিএমপি ও জাইকার জরিপ অনুযায়ী, ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ৭২,০০০ ভবন ধসে পড়তে পারে এবং ১,৩৫,০০০ ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) তথ্য অনুযায়ী, নগরীর ৭০-৮০% ভবন ঝুঁকিপূর্ণ।