যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) সম্প্রতি হামের সংক্রমণের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। চলতি বছরের প্রথম আট সপ্তাহেই দেশটিতে ১,১০০ জনেরও বেশি হামে আক্রান্ত হয়েছেন, যা গত ৩০ বছরে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে ১,১৩৬টি হামের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এই সংখ্যাটি গত কয়েক বছরের গড়ের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি। আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৯৬% ব্যক্তি এমএমআর (মেজেলস, মাম্পস, রুবেলা) টিকা গ্রহণ করেননি, বিশেষ করে ৫ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এই সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের বিশেষজ্ঞ ডঃ উইলিয়াম শ্যাফনার এই পরিস্থিতিকে ‘অশুভ ও হতাশাজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন, "হাম একটি অত্যন্ত ভয়াবহ সংক্রমণ যা যেকোনো সুস্থ শিশুকে নিমিষেই কাবু করতে পারে।" পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত প্রতি ১,০০০ শিশুর মধ্যে একজনের মস্তিষ্কে বিপজ্জনক প্রদাহ হতে পারে, আর প্রতি ১,০০০ আক্রান্তের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হতে পারে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে টেক্সাসের দুই শিশু এবং নিউ মেক্সিকোর এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও বেশি অঙ্গরাজ্যে হাম ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ক্যারোলিনা, ফ্লোরিডা এবং উত্তর ক্যারোলিনায় বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ ক্যারোলিনায় প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে ৯৮৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্যের কিছু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফ্লোরিডায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে সেখানে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যেখানে ৮৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন গত এক মাসে।
চিকিৎসকদের মতে, অভিভাবকরা রোগের চেয়ে টিকাকে বেশি ভয় পাচ্ছেন, তাই এই বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে। ডা. পল অফিট সতর্ক করে বলেছেন, "টিকা দিয়ে প্রতিরোধ করা যায় এমন রোগে শিশুদের মৃত্যু হওয়া অত্যন্ত অযৌক্তিক।" বিশেষজ্ঞরা সকল অভিভাবককে তাদের পারিবারিক চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে শিশুদের টিকার ডোজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘হাম মুক্ত দেশ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে এই লাগামহীন সংক্রমণ সেই মর্যাদাকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলেছে।