বাংলাদেশে বিচারিক আদালত থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত বিভিন্ন মামলায় সাজার পরিমাণে অসমতা এবং অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে, যা ন্যায়বিচারের সঠিক প্রয়োগে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এই সমস্যা দূরীকরণের জন্য সাজার পরিমাণ নির্ধারণে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি তুলেছে আইন কমিশন। সম্প্রতি প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ডের প্রায় ৬৬.৬৬% রেফারেন্স বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে ৫৭টি ডেথ রেফারেন্স মামলার মধ্যে ৩৮টি বাতিল হয়েছে এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ২২টি মামলায় ১৯টি মৃত্যুদণ্ড বাতিল হয়েছে।
আইন কমিশনের মতে, বিচারকদের বিচারিক ক্ষমতার অবাধ ব্যবহার এবং সাজার নির্ধারণে অসামঞ্জস্যতা বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনমত নষ্ট করছে। কমিশন বলছে, সাজার পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিচারকের ব্যক্তিগত মতামতের পরিবর্তে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন। এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অ্যাডভোকেট মো. শিশির মনিরও সাজার নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা বলেন, নীতিমালা থাকলে অপরাধীকে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা সহজ হবে এবং বিচারকদের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেমন ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, এবং সিঙ্গাপুরে সাজা নির্ধারণের বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে, বাংলাদেশেও এমন একটি বিধান তৈরি করা উচিত বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন।