বাংলাদেশে নতুন সরকার শাসন শুরু করেছে, তবে তাদের আগে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা একাধিক অধ্যাদেশ নিয়ে বিএনপি সরকারের মধ্যে তীব্র বিতর্ক চলছে। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত হলো সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং দায়মুক্তি অধ্যাদেশ। আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকালে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, এত কম সময়ে এতগুলো অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে এবং তাদের অনেকের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে, বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করছে এবং আইনি ভিত্তি দেওয়া হবে এমন অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন করা হবে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আদেশ নিয়ে বিএনপির আপত্তি ছিল, এবং তারা এই আদেশের আইনি অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের পরও তাদের অবস্থান পরির্বতিত হয়নি। সরকার পক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনও আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে। এদিকে, গত সরকারের জারি করা দায়মুক্তি অধ্যাদেশের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছিল। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি ছিল, এটা সংবিধান পরিপন্থি। তবে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি দেওয়ার চিন্তা তাদের রয়েছে, কারণ গণ-অভ্যুত্থানে অনেকের প্রাণহানি হয়েছে এবং তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে এই অধ্যাদেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বিএনপি সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানো, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার অধ্যাদেশ এবং কিছু স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে, এসব অধ্যাদেশের কার্যকারিতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিএনপির শীর্ষ নেতারা আরো আলোচনা করবেন।
আইনজ্ঞরা বলছেন, যতদিন না পরিষ্কারভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, ততদিন এসব অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকবে। তবে, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা অতি শিগগিরই বিষয়টি পরিষ্কার করবে এবং সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইনি ভিত্তি দেওয়া হবে এমন অধ্যাদেশগুলো উত্থাপন করবে।