প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে ইসরায়েল সফরে রয়েছেন, যেখানে তিনি ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে একটি বিশেষ ভাষণ দেবেন, যা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে মোদিকে তার ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করে এই সফরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে মোদির ঐতিহাসিক সফরের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি, কৃষি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
মোদির এই সফর এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে অংশীদারিত্ব বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইসরায়েল বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যার সবচেয়ে বড় ক্রেতা ভারত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে ইসরায়েল ও ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং নিরাপত্তা, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নত প্রযুক্তির আদান-প্রদান নিয়ে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আলোচনা হবে। তবে মোদির সফর নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, যেখানে কিছু অংশ এই সম্পর্ককে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য মনে করলেও অন্য অংশ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোদির ভাষণ এবং এই সফর দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও বিশ্ব কূটনীতিতে ভারতের অবস্থান শক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।