চট্টগ্রামের হালিশহর ও রাজধানীর রায়েরবাজারে গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের দুটি পৃথক ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ১৩ জন। চট্টগ্রামের ঘটনায় ৯ জন দগ্ধ হন, যাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। আহতদের অধিকাংশের শ্বাসনালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
চট্টগ্রামের বিস্ফোরণটি ঘটে হালিশহরের ‘হালিমা মঞ্জিল’ ভবনে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকেই এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত। দগ্ধদের প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এর বার্ন ইউনিটে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কয়েকজনকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ স্থানান্তর করা হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে রানী আক্তার নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। দগ্ধদের মধ্যে শাখাওয়াত হোসেন, পাখি আক্তার ও রানী আক্তারের শ্বাসনালি শতভাগ পুড়ে গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়ে রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ভবনের বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানীর হাজারীবাগের রায়েরবাজার এলাকায় একই ধরনের বিস্ফোরণে শিশুসহ চারজন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধরা হলেন শেখ নোমান, তার স্ত্রী পিংকি আক্তার, তাদের তিন বছরের ছেলে রোহান এবং নোমানের শ্যালক অপু। তাদের সবাইকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে এবং অবস্থাকে আশঙ্কাজনক বলা হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় রোগীদের জীবনঝুঁকি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা গ্যাস লিকেজ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো এবং নিয়মিত রান্নাঘরের গ্যাস লাইন পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন।