তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রায় সাত বছর আগে শুরু হওয়া এই অবকাঠামোর ৯৯ শতাংশ কাজ শেষ হলেও পরিচালনা–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এটি এখনো যাত্রীসেবার জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। সরকার জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা বা আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে।
বিমান বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তির শর্ত নিয়ে মতবিরোধই প্রধান বাধা। টার্মিনাল পরিচালনায় ১৫ বছর মেয়াদি অংশীদারিত্ব চুক্তির কথা থাকলেও ল্যান্ডিং চার্জ, যাত্রীসেবা ফি এবং বাণিজ্যিক আয়ের ভাগাভাগি নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ নকশাগত ত্রুটির কারণেও টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন করা যায়নি। ফলে সিলিং খুলে নতুন করে অবকাঠামো তৈরি করে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। এ কাজে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ডের রায়ে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে প্রায় ১৬৫০ কোটি টাকা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করতে হবে। তবে পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ফেরত দেওয়ার আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী জানিয়েছেন, টার্মিনাল চালুর জন্য প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও চুক্তিগত বিষয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে এবং দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিদেশি অপারেটর পাওয়া না গেলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনাতেও টার্মিনাল পরিচালনার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
নতুন টার্মিনাল চালুর পর বিমানবন্দরের যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সুনির্দিষ্ট চালুর সময় এখনো ঘোষণা করা হয়নি।