পারমাণবিক আলোচনার মূল নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান । ইরান বলেছে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে 'মূল নীতিগুলো' নিয়ে তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। জেনেভায় পরোক্ষ আলোচনার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, এ সংক্রান্ত আরও কাজ বাকী আছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে 'অগ্রগতি হয়েছে'। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সাম্প্রতিক সরকার বিরোধী বিক্ষোভে প্রাণঘাতী দমন অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে এবারের আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে বলেছেন, তার বিশ্বাস ইরান একটি চুক্তি করতে চাইছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা সন্দেহ করছে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তেহরান সবসময়ই তা অস্বীকার করে আসছে। মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডে ওমানের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে অনুষ্ঠিত আলোচনার আগে ইরান জানিয়েছিল, তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে গুরুত্ব দেবে। ওয়াশিংটন এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিল যে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নসহ অন্যান্য বিষয়ও আলোচনা করতে চায়।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন: "অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনো অনেক বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে। ইরানিরা বলেছে, তারা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত প্রস্তাব নিয়ে ফিরবে, যাতে আমাদের অবস্থানের মধ্যে থাকা কিছু অমীমাংসিত ব্যবধান দূর করা যায়।"।
মি. ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন যে তিনি পরোক্ষভাবে নিজেও আলোচনায় জড়িত হবেন এবং তেহরান এবার আলোচনায় আগ্রহী বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, তেহরানের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো খুবই কঠিন।"আমার মনে হয় এখানে কূটনৈতিকভাবে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ আছে, তবে আমি এটিকে অতিরঞ্জিতও করতে চাই না। এটি করা কঠিন হবে," বলেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনা হয়েছে চলতি বছরে ওমানে। সেটি 'সুন্দর সূচনা' বলে মন্তব্য করেছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।